Web bengali.cri.cn   
সুর ও বাণী: সুরকার হে শুন থিয়ান
  2017-02-03 17:30:52  cri


প্রিয় শ্রোতাবন্ধুরা, আপনারা চীন আন্তর্জাতিক বেতারের বাংলা অনুষ্ঠান শুনছেন। আমি আনন্দী বেইজিং থেকে আপনাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আজকের সুর ও বাণী আসরে চীনের বিখ্যাত সুরকার হে শুন থিয়ান-এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরব এবং শোনাবো তার কয়েকটি গান।

বন্ধুরা, প্রথমে শুনুন 'বড় বোনের ঢাক' নামের গান। গেয়েছেন চু চেন ছিন। এ গানটি ১৯৯৪ সালে তার একই নামের অ্যালবামের প্রধান গান। এ অ্যালবামটি বিশ্বের ৫৬টি দেশ ও অঞ্চলের বাজারে মুক্তি পায়। এ ডিস্কটি বিশ্ব ইতিহাসে চীনা ভাষায় মুক্তি পাওয়া প্রথম ডিস্ক। এ অ্যালবাম ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের 'ক্লাসিক ডিস্ক পুরস্কার', তাইওয়ানের 'চিন ডিং ওয়ার্ল্ডের' শ্রেষ্ঠ অ্যালবাম পুরস্কার, চীনের বেতার ও টেলিভিশন মন্ত্রণালয়ের কণ্ঠসংগীতের প্রথম পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার পেয়েছে। চীনের তিব্বতের প্রাচীনকালের এক রূপকথায় অনুপ্রাণিত হয়ে এ গানটি রচিত হয়েছে। এ অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন শিল্পী হে শুন থিয়ান।

সুরকার হে শুন টিয়ান

বন্ধুরা, হে শুন থিয়ান হলেন চীনের বিখ্যাত সুরকার, সংগীতের নতুন ভাষার প্রতিষ্ঠাতা এবং শাংহাই সংগীত ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। ১৯৮২ সালে তিনি আরডি সুর পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। যা চীনের আধুনিক সময়ের প্রথম সুর সৃষ্টির শৈলী। তার সৃষ্টি 'বড় বোনের ঢাক', 'ইয়াং চিন মা'সহ ডিস্কগুলো বিশ্বের আশিটিরও বেশি দেশে মুক্তি পায় এবং লাখ লাখ কপি বিক্রি হয়। ১৯৯৫ সালে তিনি আন্তর্জাতিক ডিস্কের ইতিহাসে চীনা ভাষায় মুক্তি দেওয়া ডিস্কের ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ২০০৩ সালে তিনি 'কণ্ঠস্বরের নকশা' নামের অ্যালবামের কাজ শেষ করেন। এ অ্যালবামটি তিনি মানবজাতির পক্ষ থেকে বিশ্বের প্রাণীজগতের প্রতি সংগীতের উপহার হিসেবে উত্সর্গ করেন। তিনি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত মার্কিন আন্তর্জাতিক নতুন সংগীতের সুরকার প্রতিযোগিতায় একমাত্র অসাধারণ সংগীত কৃতিত্ব পুরস্কারসহ ১৫টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জয় করেন। তার জীবনী 'নিউ গ্রোভ সংগীত ও সংগীতজ্ঞ অভিধানে' তালিকাভুক্ত হয়েছে।

গায়িকা ইয়াংচিমা

বন্ধুরা, এবার শুনুন হে শুন থিয়ানের আরেকটি গান। গানের নাম 'লাসার গান'। গেয়েছেন তিব্বতি জাতির গায়িকা ইয়াংচিমা।

হে শুন থিয়ান ১৯৫৩ সালে চীনের সিছুয়ান প্রদেশের সুই নিং  শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা-মা দু'জনই ছিলেন গণিতের শিক্ষক। ছয় ভাইবোনের পরিবারে তিনি হলেন চতুর্থ সন্তান। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি সুরকার হওয়ার চিন্তা করেন। ১২ বছর বয়সে তিনি প্রথম বেহালার সুর শোনেন। আর সঙ্গে সঙ্গেই তার প্রেমে পড়ে যান। সে সময় বেহালার দাম ছিল ৩০ ইউয়ান। যা তার পরিবারের এক মাসের খাওয়ার খরচের সমান! তিনি বেহালা কেনার টাকা জোগাড়ের জন্য পরিবারকে চাপ না দিয়ে নিজেই যান চিয়াং লিং নদীতে। সেখানে জাহাজ টানার কাজ শুরু করেন তিনি। এ কাজ থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে বেহালা কিনেন হে শুন থিয়ান। সে সময় তাদের বাসার পাশে এক গির্জা ছিল। সন্ধ্যায় গির্জা থেকে গান ও একোর্ডিয়ানের আওয়াজ ভেসে আসত। সেই সুরের সঙ্গেই হে শুন থিয়ানের সংগীত জীবনও শুরু হয়ে যায়!

বন্ধুরা, এখন শুনুন হে শুন থিয়ানের সৃষ্টি 'মেঘের ঘণ্টা' নামের সুর।

গায়িকা সা ডিং ডিং

১৯৯৫ সালে হে শুন থিয়ান চলচ্চিত্র পরিচালক হু শুয়েন হুয়ার সঙ্গে যৌথভাবে 'হিমালয়ের রাজকুমার' নামে একটি চলচ্চিত্রের সুর ও গান সৃষ্টি করেন। 'শেন সিয়াং' হলো এ চলচ্চিত্রের প্রধান গান। মূলত এ গানটি প্রেম ও ঘৃণা নিয়ে রচিত একটি কবিতা; যাতে হিমালয়ের জাদুকর প্রভাব রয়েছে। বন্ধুরা, শুনুন সা ডিং ডিং নামে এক শিল্পীর গাওয়া 'শেন সিয়াং' গানটি।

চু চেন ছিন চীনের একজন গায়িকা, তার ইংরেজি নামে দাদাওয়া। ১৯৯০ সালে তিনি হে শুন থিয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে শৈল্পিক গান তৈরি করেন। ১৯৯২ সালে তাদের প্রথম অ্যালবাম 'হলুদ বাচ্চা' মুক্তির পর চু চেন ছিন চীনের সংগীত মহলে সুনাম অর্জন করেন। কেউ কেউ বলেন, চু চেন ছিন হলেন প্রাচ্যের আনয়া। কিন্তু প্রথম অ্যালবাম সফল হলে চু চেন ছিন আর হে শুন থিয়ান আত্মহারা হয়ে যান। তারা চিন্তা করেন, নিজে কে? নিজেকে খুঁজতে তারা তিব্বতে যান।

গায়িকা চু চেন ছিন

হে শুন থিয়ান চীনা সংগীত ও নতুন যুগের সংগীতের সমন্বয়ের চেষ্টা করেছেন। তখন তার 'বড় বোনের ঢাক' আর 'ইয়াং চিন মা' অ্যালবাম দু'টি বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সে সময় বিদেশি গণমাধ্যমে লেখা হয়, 'আপনি যদি বিদেশের অডিও দোকানে চীনা সংগীতের একটি সিডিও খুঁজে পান, খুব সম্ভবত সেটা হবে চু চেন ছিনের সিডি।' তিনি এ দু'টি অ্যালবামের কারণে আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সারিতে স্থান করে নেন।

বন্ধুরা, এখন আপনারা শুনছেন চু চেন ছিনের গাওয়া 'ইয়াং চিন মা' নামের গান। ইয়াং চিন তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মের এক দেবী। তাই তিব্বতি জাতির অনেক মেয়ের নাম 'ইয়াং চিন' রাখা হয়।

২০০২ সালে 'পারমিতা' নামে আরেকটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন হে শুন থায়ান। এ অ্যালবামে উচ্চ মানের রেকর্ডিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সংগীত শৈলী বিশ্বজয় করে এবং ব্যাপক প্রশংসা পায়। এ অ্যালবামটি বৌদ্ধ ধর্মীয় সংগীতের ভিত্তিতে সৃষ্টি হয়েছে। চু চেন ছিনের সমৃদ্ধ কণ্ঠে প্রকৃতি ও বিশ্বের বৈচিত্র্য এতে প্রতিফলিত হয়েছে। বন্ধুরা, এখন উপভোগ করুন 'পারমিতা' সুরটি।

হে শুন থিয়ান বলেন, 'সুর করার পেছনে একটি উদ্দেশ্য হলো, মানবজাতির আবির্ভূত সুরগুলো এড়ানো। আমি মনে করি, প্রত্যেকের নিজের সুগন্ধ আছে। সবার উচিত নিজের বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত করা, অন্যের গন্ধের নিচে লুকানো ঠিক নয়।'

বন্ধুরা, অনুষ্ঠানের শেষে শুনুন 'পিপা ভ্রমণ' নামের সুর।

প্রিয় বন্ধুরা, এতক্ষণ আপনারা চীনের বিখ্যাত সুরকার হে শুন থিয়ানের সংক্ষিপ্ত পরিচয় এবং তার কয়েকটি সুর শুনলেন। আশা করি, সুরগুলো আপনাদের ভালো লেগেছে।

বন্ধুরা, আজকের সুর ও বাণী আসর এ পর্যন্তই। আমি বিদায় নিচ্ছি। ভালো থাকুন সবাই। আবার কথা হবে।

(ইয়ু/তৌহিদ)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040