Web bengali.cri.cn   
পূবের জানালা: আমাদের ভবিষ্যত জীবন
  2016-11-23 14:23:55  cri


২০৪৬ একটি চলচ্চিত্রের নাম। ১০ বছর আগে এই সায়েন্স ফিকশান চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। অন্য অনেক সায়েন্স ফিকশানের মতো এতেও দেখানো হয়েছে ভবিষ্যতের জীবন। ছবিতে একটি ট্রেন দেখানো হয়েছে, যাতে চেপে বসলে অতীতে ফিরে যাওয়া যায়।

বিজ্ঞান উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে। আজ যা অসম্ভব, কাল তা সম্ভব হচ্ছে। আজকে যা সায়েন্স ফিকশানের উপজীব্য, কাল তা-ই হবে বাস্তব। অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের তেমন কথাই বলে। খুব বেশি কাল আগের কথা নয়, যখন মানুষের কাছে আকাশে ওড়া ছিল অসম্ভব একটি ব্যাপার। কিন্তু এখন আকাশে শুধু মানুষ উড়ছেই না, চাঁদ ছাড়িয়ে এখন মঙ্গলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা এখন মাসের পর মাস মহাশূন্য থেকে গবেষণা করছেন। এইতো সেদিন চীনের দু'জন বিজ্ঞানী মহাশূন্য কাটিয়ে এলেন পুরো একটি মাস।

প্রিয় শ্রোতা, আমাদের আজকের পূবের জানালা অনুষ্ঠানে আমরা ভবিষ্যতে আমাদের জীবন কেমন হবে, সে সম্পর্কে একটু ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। সম্প্রতি চীনের সেন চেন শহরে অনুষ্ঠিত হয় 'চীন হাই-টেক ফেয়ার'। আমাদের আলোচনা হবে সেই ফেয়ারকে কেন্দ্র করে।

পোশাক

ভবিষ্যতে মানুষ কী ধরনের পোশাক পরবে? ভবিষ্যতে একসময় হয়তো গ্রাফিন দিয়ে তৈরি করা হবে পোশাক। চীনা হাই-টেক ফেয়ারে প্রদর্শিত একটি জামা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দেখতে এ জামা সাধারণ অন্য দশটা পোশাকের মতোই। তবে এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি গ্রাফিন দিয়ে তৈরি। আপনি এই পোষাক গায়ে দিয়ে মোবাইল ফোনের অ্যাপের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। তখন শীতকালে মোটা মেটা গরম কাপড় আর লাগবে না। গ্রাফিনের তৈরি হালকা-পাতলা জামা-ই যথেষ্ট প্রমাণিত হবে।

কোনো কোনো কোম্পানি এখনই এমন পোশাক নিয়ে গবেষণা করছে, যে পোশাক মানুষের শারিরীক অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় উপাত্ত সংগ্রহ করে হাসপাতালে পাঠবে। তার মানে, হাসপাতালের চিকিৎসকরা মানুষের শরীরের অবস্থা সম্পর্কে সবসময় আপ-টু-ডেট থাকবেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ভবিষ্যতে জুতা, ব্যাকপ্যাক ও পোশাক ইত্যাদিতে যোগ হবে একটি করে সেন্সর। এ সব সেন্সরে বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শিত হতে থাকবেন। এ সব সেন্সর হবে কাগজের চেয়ে পাতলা।

 গ্রাফিন পোশাক

খাবার

২০৪৬ সালের কোন একটি সকাল। স্মার্ট টুথব্রাশ এবং টয়লেট আপনার মুখ ও অন্ত্রের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আপনার কী ধরনের খাবার খাওয়া উচিত তার একটি হিসাব রেফ্রিজারেটরে পাঠবে। রেফ্রিজারেটর সে তথ্য পাঠাবে খাদ্য ও পুষ্টি কোম্পানিতে। কোম্পানি আপনার প্রয়োজনীয় খাবার আপনার বাসায় পাঠিয়ে দেবে।

হাই-টেক ফেয়ারে রোবটকে রান্না করতে দেখা গেল। সেখানে আরও দেখা গেল, থ্রিডি প্রিন্টারে বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রিন্ট হচ্ছে। ভবিষ্যতে আমাদের খাবারের কী হাল হবে, এখনই বলা মুশকিল। তবে, তখন যে প্রতিজন মানুষের শারীরিক চাহিদা অনুসারে খাবার সয়ংক্রিয়ভাবে ক্রয়-বিক্রয় হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নাই।

বাসস্থান

একটি বাসস্থান নির্মাণের জন্য অন্যান্য অনেক উপাদানের মতো স্টিল ও সিমেন্ট প্রয়োজন। তবে ভবিষ্যতে প্লাস্টিক ফিল্ম দিয়েও আমরা স্টেডিয়াম ও গুদাম নির্মাণ করতে পাড়বো। নরম নির্মাণসামগ্রী কিন্তু দুর্বল নয়! চলতি বছর প্লাস্টিক ফিল্ম দিয়ে তৈরি ৮টি ভবন তীব্র টাইফুন থেকে রক্ষা পেয়েছে।

ভবিষ্যতে বাসস্থান নির্মাণের কাজটা হবে অনেকটা লেগো খেলার মতো। প্রথমে বাসার নানা অংশ তৈরি করা হবে এবং তারপর সেগুলো একটা সাথে আরেকটা জোড়া দিয়ে তৈরি হবে পূর্ণাঙ্গ বাড়ি। তখন মানুষের ব্যাক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী আরও নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত বাসা তৈরি করা হবে। বাসাও পোশাকের মতো ব্যক্তির রুচির ওপর নির্ভর করে তৈরি হবে।

 

পরিবহন

এখন আমরা মোবাইল ফোনে নিজের অবস্থানে কথা জানিয়ে ডিমান্ড করতেই, ট্যাক্সি আমাদের সামনে এসে হাজির হয়। কয়েক বছর আগেও এটা ছিল কল্পনাতীত। অথচ এটাই এখন বাস্তবতা।

ভবিষ্যতে চালকবিহীন গাড়ি রাজপথে চলবে। এমনকি গাড়ি আমাদের চাহিদা অনুসারে নিজের আকার-আকৃতি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করতে পারবে, অনেকটা ট্রান্সফর্মার চলচ্চিত্রের মতো। সফটওয়্যার আপগ্রেডেশানের মাধ্যমে গাড়িতে যোগ করা যাবে নানান ফাংশন।

ভবিষ্যতের গাড়ি মাত্র একটি পরিবহন যন্ত্র হবে না, হবে একটি স্বয়ংক্রিয় রোবট।

 চালকবিহীন গাড়ি

বিনোদন

হাই-টেক ফেয়ারে মোবাইল সিনেমা প্রদর্শিত হয়েছে। এটা আসলে একটি হেডফোনের মতো, যাতে স্ক্রিন যুক্ত আছে।

ফেয়ারে একটি চালকবিহীন বিমান প্রদর্শিত হয়েছে। বিমানটি মানুষের মনের কথা যেন পড়তে পারে। মানুষ ঠিক যেভাবে চায়, সেটি সেভাবে চলে। আসলে বিমানের কম্পিউটারের সাথে মানুষের ব্রেনের একটা যোগাযোগ স্থাপন করে দেওয়া হয়। ব্যস তখন ব্রেনের চিন্তাভাবনা অনুসারে বিমানটি চলে।

ভবিষ্যতে মানুষের ব্রেনের সাথে যুক্ত হবে কম্পিউটার গেমস্‌। মানুষ যে ভাবে চাইবে, সেভাবে গেমস্‌-এর চরিত্রগুলো দৌড়াবে, লড়াই করবে।

আসলে ভবিষ্যতে ভার্চুয়াল রিয়ালিটির সাহায্যে মানুষের বিনোদনের পদ্ধতিই বদলে যাবে।

বিমানটি মানুষের মনের কথা যেন পড়তে পারে

মোবাইল সিনেমা

আগামী ২০ বছরের মধ্যে চীনে পাতাল রেল চলবে চালক ছাড়া। রাস্তায়ও তখন চলবে চালকবিহীন গাড়ি। তখন রোবট কারখানায় কাজ করবে, প্রবীণ ও শিশুদের সাথী হবে, গৃহকাজ করবে, নার্সের মতো সেবা দেবে, এবং চিকিৎক হিসেবে দেবে চিকিৎসা।

প্রিয় শ্রোতা, ভাবুন ৩০ বছর আগের মানুষের কথা। তারা তখন যা ভাবতেও পারতেন না, তা এখন নিজের চোখে বাস্তবে দেখছেন। এমন অনেক কিছুই তো আছে! আজ থেকে ৩০ বছর পরও এমন অনেক কিছুই আমরা দেখতে পাবো, যদি বেঁচে থাকি, যা আজ হয়তো ভাবতেই পারছি না। (শিশির/আলিম)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040