Web bengali.cri.cn   
সুর ও বাণী: পিপাবাদক লিউ দে হাই ও তার বাজনা
  2016-11-16 21:20:12  cri


প্রিয় শ্রোতাবন্ধুরা, আপনারা চীন আন্তর্জাতিক বেতারের বাংলা অনুষ্ঠান শুনছেন। আমি আনন্দী আবারও 'সুর ও বাণী' আসর নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের সামনে। আশা করি, সবাই ভালো আছেন। আজ আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেবো চীনের বিখ্যাত পিপাবাদক ও শিক্ষাবিদ লিউ দে হাইয়ের সঙ্গে এবং শোনাবো তার বাজানো পিপার সুর।

পিপাবাদক লিউ দে হাই

বন্ধুরা, প্রথমে শুনুন 'দূরের অতিথি এখানে থেকে যান' শীর্ষক সুর। ১৯৫৩ সালের এপ্রিলে সুরকার মাই ডিং এবং ফান ইয়ু  ইয়ুননানের ই জাতির মানুষের আতিথেয়তায় অনুপ্রাণিত হয়ে এ সুর সৃষ্টি করেন।

বন্ধুরা, লিউ দে হাই হচ্ছেন চীনের বিখ্যাত পিপাবাদক ও শিক্ষাবিদ। চীনে সবাই তাকে 'পিপা মাস্টার' বলে ডাকেন। দেশে-বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন তিনি।

লিউ দে হাই ১৯৩৭ সালের ১৩ অগাস্ট শাংহাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছোটবেলায়ই পিপা, আরহু, বাঁশি, সেতারসহ চীনের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে শেখেন এবং সংগীতে তার অসাধারণ প্রতিভার ঝলক দেখান। ১৯৫৭ সালে তিনি কেন্দ্রীয় সংগীত ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। তিনি দক্ষিণ চীন ও উত্তর চীনের বিভিন্ন পিপা মাস্টারের কৌশল শেখেন এবং পিপা বাজনার পদ্ধতিতে নতুনত্ব আনেন। ১৯৬০ সালে তিনি 'লাং ইয়া পাহাড়ের পাঁচ জন বীর' শীর্ষক সুর বাজানোর সময় ঐতিহ্যবাহী সুরের ওপর নতুন কৌশল ব্যবহার করে তাকে সমৃদ্ধ করেন। তার প্রচেষ্টায় আধুনিক পিপা বাজনা অনেক এগিয়ে গেছে।

বন্ধুরা, এবার শুনুন 'লং ইয়া পাহাড়ের পাঁচ জন বীর' শীর্ষক সুর।

১৯৭০ সালে লিউ দে হাই কেন্দ্রীয় অর্কেস্ট্রার একক পিপাবাদক হন। ১৯৭৩ সালে তিনি উ জু ছিয়াং এবং ওয়াং ইয়ান ছিয়াওয়ের  সঙ্গে যৌথভাবে পিপা কনসার্টো 'তৃণভূমির দুই বোন' সৃষ্টি করেন। এ সুর সৃষ্টির সময় প্রথমবারের মতো চীনের কোনো লোক বাদ্যযন্ত্রের সাথে পশ্চিমা সুষি বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হয়। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা ও জার্মানির ওয়েস্ট বার্লিনের সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার সঙ্গে কাজ করেন। এভাবে চীনের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র 'পিপা' আন্তর্জাতিক সংগীতের মঞ্চে উঠে আসে।

বন্ধুরা, এখন আপনারা শুনছেন লিউ দে হাই এবং কেন্দ্রীয় সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার যৌথ পরিবেশনা 'তৃণভূমির দুই বোন' সুর। এ সুরটিতে চীনের মঙ্গোলীয় জাতির সন্তান লোং মেই এবং ইয়ু রোংয়ের (龙梅和玉荣) তুষার-ঝড়ের কবল থেকে মেষপাল রক্ষার মর্মস্পর্শী কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। এতে নয়াচীন প্রতিষ্ঠার পর নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বিপ্লবী চেতনার প্রশংসা করা হয়েছে। ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে এ সুরটি দু'বার যুক্তরাষ্ট্রে পরিবেশিত হয়। দেশি-বিদেশি দর্শক-শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয় এ সুর।

১৯৮৩ সালে লিউ দে হাই চীনের সংগীত ইনস্টিটিউটের উপ-প্রধান ও অধ্যাপক হন। তিনি চীনের আধুনিক পিপাবাদকদের অন্যতম প্রতিনিধি। তার পিপা বাজানোর কৌশল সাবলীল এবং তার সৃষ্ট সুর আবেগপূর্ণ। তিনি নিজে পিপা বাজানোর নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন এবং নানা ধরনের সুর সৃষ্টি করেন।

তিনি প্রথমবার চীনের প্রাচীন সুর 'চার দিকে ওত পেতে থাকা' শুনে খুব পছন্দ করেন। তবে তিনি মনে করেন, সুরটিতে পুরোপুরি প্রাচীনকালের যুদ্ধমাঠের দৃশ্য বর্ণিত হয়নি। তিনি বার বার সুরটি শোনেন এবং পরে এতে পরিবর্তন আনেন। কাজটা লিউ দে হাইয়ের জন্য ছিল দুঃসাহসিক। কারণ, 'চার দিকে ওত পেতে থাকা' বহু বছর আগে থেকেই চীনের খুব জনপ্রিয় একটি সুর। কাজটা ভালোভাবে না-করতে পারলে তার বদনাম হবে, সঙ্গীতমহলে তিনি সমালোচিত হবেন—এমন একটা চ্যালেঞ্জ নিয়েই তিনি শুরু করেছিলেন। এ ক্ষেত্রে তার আত্মবিশ্বাস ছিল বড় পুঁজি। ১৯৭৫ সালে তিনি প্রথমবার 'চার দিকে ওত পেতে থাকা' সুরটির পরিবর্তিত রূপ পরিবেশন করেন এবং প্রশংসিত হন। তখন থেকেই এ সুরটির সাথে লিউ দে হাইয়ের নাম জুড়ে যায়। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এ সুর বাজিয়েছেন এবং তার মাধ্যমে বিশ্ববাসী প্রাচীন চীনা সংস্কৃতির একটা উল্লেখযোগ্য দিক সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।

বন্ধুরা, এখন শুনুন লিউ দে হাইয়ের বাজানো 'চার দিকে ওত পেতে থাকা' সুরটি।

বন্ধুরা, এতোক্ষণ আপনারা চীনের বিখ্যাত পিপাবাদক লিউ দে হাইয়ের বাজানো পিপা সুর শুনলেন। তিনি পিপা বাজানো, পিপার সুর সৃষ্টি করার পাশাপাশি চুপে চুপে শিক্ষাদানের কাজটিও করেন। তিনি বলেন, পিপা পশ্চিম থেকে চীনে আসার পর চীনারা একে চীনের লোকবাদ্যযন্ত্রে রূপান্তর করে। এখন আবার তা দিয়ে বিদেশি সুর বাজানোর প্রচেষ্টা চলছে।

বৃদ্ধ হলেও সবসময় সংস্কারের কথা চিন্তা করেন তিনি। একদিনের জন্যও তিনি পিপা বাজানো বন্ধ করেননি। তিনি বলেন, "চীনের লোকসংগীতের যাত্রা সংগীতজ্ঞ লিউ টিয়ান হুয়ার হাত ধরে। তিনি সংগীতের তত্ত্ব জানেন, বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারেন, সুর সৃষ্টি করতে পারেন। আমাদের এমন সংগীতজ্ঞ দরকার।"

তিনি আশা করেন, বহু লোক যেমন গিটার বাজাতে পারে, তেমনি একদিন বহু লোক পিপাও বাজাতে পারবে। আরো বেশি বিদেশি বন্ধু পিপা বাজানো শিখবে, এটা তার একটা স্বপ্ন।

বন্ধুরা, 'সুর ও বাণী' আসর আজকের মতো এখানে শেষ করছি। অনুষ্ঠানটি শোনার জন্য ধন্যবাদ। (ইয়ু/আলিম)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040