Web bengali.cri.cn   
কাও রুই হোং টুপুর: চীনের সবচেয়ে তরুণ বাংলা ভাষার শিক্ষিকা
  2016-11-14 11:03:28  cri

 


বন্ধুরা, আজকের অনুষ্ঠানে আমরা চীনের ইউয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ ও সি'আন বিদেশি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা প্রশিক্ষণ নিয়ে দু'টি প্রতিবেদন শোনাবো। চলুন তাহলে শোনা যাক প্রতিবেদন দু'টি।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে চীনের ইউয়ুননান প্রদেশের ইউয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয় (ওয়াইএমইউ)-য়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা ভাষার কোর্স যাত্রা শুরু করে। মূলত চীনের দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এখানে চার বছর মেয়াদি বাংলা ভাষার ওপর অনার্স কোর্স চালু হয়।

বিভাগটিতে শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন কাও রুই হোং টুপুর (বাংলা নাম টুপুর) এবং অধ্যাপক বাই খাই ইউয়ান। অধ্যাপক বাই খাই ইউয়ান প্রায় ৫০ বছর ধরে বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করছেন। আর টুপুর মাত্র গত বছর চীন যোগাযোগ বিশ্ববিদ্যালয় (সিইউসি)-র বাংলা ভাষা বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। একজন তরুণ শিক্ষিকা হিসেবে এ বছরের জুলাই থেকে অগাস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে লেখাপড়া করেন তিনি।

টুপুরের জন্মস্থান চির বসন্তের নগরী ইউয়ুননান প্রদেশ। তাই বেইজিং থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার পর তিনি তার জন্মস্থানে ফিরে যান। ২০১৫ সালে যখন ইউয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা বিভাগ চালু করা হয় তখন তিনি বিভাগটিতে শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন।

ইউয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া একাডেমি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ভাষার ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে। আসলে ইউয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয় কেন বাংলা ভাষার ওপর এত গুরুত্ব দিচ্ছে? এ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মি. না চিন হুয়া বলেন,

'দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অতি গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে আদান-প্রদান অনেক ঘনিষ্ঠ হয়েছে এবং একইসঙ্গে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দু'দেশের কাঠামোগত সহযোগিতা-ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ইউয়ুননান প্রদেশ ও বাংলাদেশের মধ্যে আর্থ-বাণিজ্যিক বিনিময় অনেক বেড়েছে। ইউয়ুননান প্রদেশের বিদেশি ভাষা প্রশিক্ষণের ঘাঁটি হিসেবে দেশের জন্য শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি প্রশিক্ষিত করা তার বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব'।

বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠা দক্ষিণ এশিয়া একাডেমির প্রথম পদক্ষেপ। পরে উর্দু, নেপালি, সিংহালা, তামিল ও পশতুন ভাষাসহ বিভিন্ন বিভাগ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের। এ সম্পর্কে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)-র এ বিশ্ববিদ্যালয় পার্টির সম্পাদক ছেন লু ছিয়াং জোর দিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়া একাডেমি শুধু বিভিন্ন ভাষা চালুই করবে না, ভালোভাবে এর দায়িত্বও পালন করবে। তিনি বলেন,

'আমরা নিজস্বভাবে বিভিন্ন ভাষার শিক্ষক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি চীনের বিভিন্ন শহর থেকে পেশাদার ভাষা বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানাই। তা ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় সময় মতো বিভিন্ন ভাষার শিক্ষকদের বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠায়। শিক্ষকদের যোগ্যতা হবে দক্ষিণ এশিয়া একাডেমির বিভিন্ন ভাষা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় শর্ত, যা কার্যকরভাবে ভাষা প্রশিক্ষণের মান উন্নীত করতে সক্ষম'।

চলতি বছর গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে টুপুর বাংলাদেশ যান। এ সময় তিনি দুই মাস বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আরো গভীরভাবে জানেন। তা ছাড়া, গত বছর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দি বিভাগের দু'জন স্নাতক শিক্ষার্থী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষা শিখতে শুরু করেছেন। ভবিষ্যতে তারা দেশে ফিরে বাংলা বিভাগের প্রশিক্ষণ কাজে অংশ নেবেন।

চীন আন্তর্জাতিক বেতার (সিআরআই) বাংলা বিভাগের (অব:) অধ্যাপক মি.বাই খাই ইউয়ান ইউয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের জন্য পাঠ্যপুস্তক রচনা করছেন। তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন রচনা অনুবাদ করে আসছেন। শিক্ষার্থীদেরকে আরো কার্যকরভাবে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি শেখাতে তিনি বিভাগটির জন্য তিনটি বাংলা ভাষা শেখার বই রচনা করবেন।

প্রথম বইটি এ বছরের মধ্যে শেষ হবে। এ বইতে মোট ৪০টি পাঠ থাকবে। প্রথম ২০টি পাঠের মধ্যে বাংলা ভাষার অক্ষর উচ্চারণ, দৈনন্দিন জীবনের কথাবার্তা ও মৌলিক ব্যাকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরের ২০ পাঠে চীন ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং রবীন্দ্র সাহিত্যের নির্বাচিত কিছু অংশ থাকবে।

বাংলা ভাষা শেখার বই রচনা করার পাশাপাশি টুপুরকে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করেন অধ্যাপক বাই। বাংলা ভাষা নিয়ে লেখাপড়া করা তরুণদের প্রতি বিশেষ আশাবাদী মি. বাই। তিনি বলেন,

'আমি প্রায়ই সহকর্মীদের বলি, অনুবাদের কাজে সবসময় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের মতো লেখাপড়া করতে হবে। কেউ কেউ আমাকে বয়োজ্যেষ্ঠ অনুবাদক ডাকেন, কিন্তু আমি নিজেকে তা ভাবিনা। কারণ যখন আমি নতুন বই অনুবাদ করতে শুরু করি,তখন আমি প্রাথমিক স্কুলের একজন শিক্ষার্থীর মতো বইটি ভালোভাবে পড়ি। তারপর এ বইয়ের অর্থ বোঝার চেষ্টা করি। যদিও আমার বয়স ৭০ বছর, তবে কিছু কিছু শব্দ বা বাক্য যদি বুঝতে না পারি, তখন আমি তরুণ বিদেশি কর্মীদের জিজ্ঞাস করি। তাদের কাছ থেকে এ শব্দ বা বাক্য জানার চেষ্টা করি। তারা আমার শিক্ষক। আমিও আশা করি তরুণ চীনা শিক্ষকরা আমার মতো সবসময় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীর মতো বাংলা ভাষা নিয়ে লেখাপড়া ও গবেষণা করবেন, যাতে এ ভাষার দক্ষতা আরো উন্নত করা যায়'।

প্রতি সপ্তাহের সোমবারের ক্লাস টুপুরের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এদিন সকালে অধ্যাপক বাই প্রথমে শিক্ষার্থীদের কাছে বাংলা ভাষা শেখার তাত্পর্য ও কঠিন বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন। পরে টুপুর শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষার বিভিন্ন অক্ষর উচ্চারণ ও লেখার পদ্ধতি শেখান।

বিশ্ববিদ্যালয়টির বাংলা বিভাগের ১৮ জন শিক্ষার্থী অনেক মনোযোগ দিয়ে টুপুরের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করেন। আগামী ৪ বছর তারা টুপুরের কাছ থেকে বাংলা ভাষা শিখবেন, জানবেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কেও।

শিক্ষার্থী ইয়াং হুং রিং ক্লাস শেষে টুপুরকে বাংলা ভাষা নিয়ে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেন। তার কাছে এ ভাষা অনেক কঠিন, তবে এ ভাষা ভালোভাবে শিখলে ভবিষ্যতে নিজের ভালো সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র চলতি বছর ‌এ বিভাগটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেশি নয়, তবে চীন সরকার দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্কের ওপর অনেক গুরুত্ব দিচ্ছে, তাই ভবিষ্যতে বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করার সুযোগও থাকবে অনেক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি বাংলা ভাষার শিক্ষক হবেন বলে আশা করেন।

শিক্ষার্থীদের পড়ানোর সময় তাদের উচ্চারণ ঠিক করার অনেক চেষ্টা করছেন এবং সেই সঙ্গে অনেক সমস্যাও খুঁজে বের করেছেন টুপুর। তিনি নিজে বাংলা ভাষা শেখার সময় এমন সমস্যার সম্মুখীন হন নি। টুপুর মনে করেন, 'অন্যদের বাংলা ভাষা শেখানো আর নিজের শেখা পুরোপুরি আলাদা। বাংলা ভাষার অনেক উচ্চারণ চীনা ভাষায় খুঁজে পাওয়া যায় না, তাই শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে উচ্চারণ পড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আশা করি আমার পড়াশোনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উচ্চারণ শেখা একটু সহজ হবে এবং তারা মজা করে বাংলা ভাষা শিখতে পারবেন। আর এ জন্য আমাকে আরো বেশি লেখাপড়া করতে হবে'।

ক্লাস শেষ হলেও টুপুরের কাজ শেষ হয় না। পরের দিনের ক্লাসের জন্য তাকে আরো প্রস্তুতি নিতে হবে। সহায়তা করতে হবে অধ্যাপক বাইকে বাংলা ভাষার বই রচনার কাজেও। আর দায়িত্বশীল শিক্ষিকা হিসেবে ক্লাসের বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব তো রয়েছেই।

তাই দিনের সমস্ত কাজ শেষে যখন সন্ধ্যা নেমে আসে মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ে, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের রুমে শিক্ষার্থীদের হোমওয়ার্ক দেখতে শুরু করেন টুপুর। বাইরে অন্ধকার, ঝিঝি পোকার শব্দ। বৃষ্টি পড়ছে, বইছে মৃদু ঠাণ্ডা হাওয়া। হঠাত্ জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখছেন দূরের ল্যাম্পপোস্টের আলো। চোখটাকে সেখান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আবারও দেখতে শুরু করেছেন হোমওয়ার্ক।

হয়তো বৃষ্টি থেমেছে, থেমেছে ঠাণ্ডা হওয়া, ঝিঝি পোকার শব্দ। কিন্তু মনের গহীনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে জেগে আছেন কাও রুই হোং টুপুর।

প্রিয় শ্রোতা, এতক্ষণ আপনারা ইউয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের গল্প শুনলেন। এখন আমরা চীনের সি'আন শহরের বিদেশি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি ভাষার শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ-সম্পর্কিত কিছু তথ্য তুলে ধরবো।

'এক অঞ্চল, এক পথ' চিন্তাধারা উত্থাপন করার পর বিভিন্ন দেশের মধ্যে নীতিমালা, বাণিজ্য, অবকাঠামো-নির্মাণ ও অর্থ বিনিময়সহ বিভিন্ন খাতের সহযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। এর মধ্যে ভাষা হল বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি। সম্প্রতি 'রেশমপথ' সংলগ্ন দেশের প্রতিনিধিরা সি'আন বিদেশি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখানকার বিদেশি ভাষার প্রশিক্ষণ সহযোগিতার অবস্থা গবেষণা করেন।

বর্তমানে সি'আন বিদেশি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয় মোট ১৭টি ভাষার কোর্স চালু করেছে। এর মধ্যে 'এক অঞ্চল, এক পথ' সংলগ্ন দেশের অনেক ভাষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চীনের 'ত্রয়োদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা' চলাকালে আরো ৩৮টি ভাষার কোর্স চালু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন ভাষার কোর্স চালু করার জন্য ২০১৪ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয় 'মধ্য-এশিয়া একাডেমি' প্রতিষ্ঠা করে। এ পর্যন্ত এখানে বিশ্বের ৪৫টি দেশের শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে বিদেশি ভাষার শিক্ষার্থীদের শুধু ভাষার দক্ষতা নয়, বরং ভাষা ও পেশাগত জ্ঞান সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এ সম্পর্কে সি'আন বিদেশি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং ফেং বলেন, চীনা শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যান্য ২৯টি প্রধান বিষয় চালু হয়েছে। এখন তারা ভাষা শেখার পাশাপাশি অন্য প্রধান বিষয় নিয়েও লেখাপড়া করতে সক্ষম। তিনি বলেন,

'বিদেশি ভাষা শেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সাহিত্য, অর্থনীতি, প্রশাসন, আইন ও শিল্পকলাসহ বিভিন্ন প্রধান বিষয় শিখতে পারেন। আমরা তাদের বহু প্রধান বিষয় শিখতে উত্সাহ দিয়ে থাকি'।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থীরা যদি চীনা ভাষার পরীক্ষায় পাশ করতে পারেন এবং লেখাপড়ার যোগ্যতা থাকে, তাহলে তারা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, চীনা ভাষার আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও পর্যটন প্রশাসনসহ কয়েকটি প্রধান বিষয়ে লেখাপড়া করতে সক্ষম। ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং ফেং বলেন,

'বিদেশি শিক্ষার্থীরা যদি চীনা ভাষা ও ইংরেজি ভাষা জানেন তাহলে তারা চীনা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একসাথে প্রধান বিষয়ে ভর্তি হতে পারেন। তারা সরাসরি অনার্স বা মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। মধ্য এশিয়া একাডেমি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি প্রধান মাস্টার্স কোর্স চালু করেছে। তা হল আঞ্চলিক অর্থনীতির উন্নয়ন ও প্রশাসন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও চীনা ভাষার আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ। আরো দুটি নতুন প্রধান বিষয় হল পর্যটন প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য'।

আসলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা যদি ভালোভাবে চীনা ভাষা শেখেন তাহলে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেড়ে যাবে।

কাজাখস্তানের মেয়ে রানরান এখন চীনা ভাষার ওপর মাস্টার্স করছেন। তিনি মনে করেন, ভালোভাবে চীনা ভাষা শেখার পর দেশে ফিরে গেলে তিনি ভালো চাকরি পাবেন, কারণ স্থানীয় অঞ্চলে চীনা কোম্পানির এখন ভাষা জানা কর্মীদের অনেক প্রয়োজন। তিনি বলেন,

'চীন ও কাজাখস্তানের সম্পর্ক অনেক ভালো। আমি মনে করি চীনা ভাষা ভালোভাবে পড়লে অবশ্যই ভালো চাকরি পাবো। আমার দেশে অনেক চীনা কোম্পানি আছে, তাদের আমার মতো চীনা ও রুশ ভাষা জানা কর্মী প্রয়োজন'।

মধ্য এশিয়া একাডেমির চীনা ভাষা বিভাগের প্রধান উ ইয়োং জি বলেন, বর্তমানে বিদেশে অনেক চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সি'আন বিদেশি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানায়। কয়েক দিন আগে চীনের মহাকাশ কোম্পানি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সহযোগিতার ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করেছে। তিনি বলেন,

'চীনের মহাকাশ কোম্পানি আমাদের বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে তাদের জন্য কর্মী বাছাই করতে আগ্রহী। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তাদের জন্য শ্রেষ্ঠ বিদেশি শিক্ষার্থী বাছাই করি আমরা, যাতে ভবিষ্যতে তারা দেশে ফিরে যাওয়ার পর ভালো চাকরি পেতে পারেন'।

বিদেশি ভাষার শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রুশ শিক্ষক লেনা বলেন, বিদেশি ও আন্তঃদেশীয় কোম্পানির তুলনায় বিদেশি ভাষা জানা চীনা শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট বা অন্য সাংস্কৃতিক সংস্থায় চাকরি করলে আরো ভালো হবে। কারণ এভাবে স্থানীয় অঞ্চলের বাচ্চাদের সহজেই চীনা ভাষা শেখানো সম্ভব হবে, জোরদার হবে চীন ও অন্যান্য দেশের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিষয়ক বিনিময় এবং সহযোগিতাও। তিনি বলেন,

'সি'আন বিদেশি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সাথে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্নাতক হওয়ার পর রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চীনা ভাষা নিয়ে চাকরি করতে পারেন এবং স্থানীয় অঞ্চলের বাচ্চাদের চীনা ভাষা শেখাতে সাহায্য করতে পারেন'।

জানা গেছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয় রাশিয়া, কাজাখস্তান, তুরস্ক, জর্ডানসহ 'রেশমপথ' সংলগ্ন দেশের ২০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সহযোগিতামূলক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কাজ শুরু হয়েছে।

আচ্ছা বন্ধুরা, সময় দ্রুত চলে যায়। গল্প শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের অনুষ্ঠানও তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে এলো। আর হ্যাঁ, এ অনুষ্ঠান সম্পর্কে কোনো মতামত থাকলে আমাদেরকে চিঠি লিখতে ভুলবেন না। আমাদের যোগাযোগ ঠিকানা ben@cri.com.cn,caoyanhua@cri.com.cn

আজকের মতো তাহলে এখানেই বিদায় বন্ধুরা। আগামী সপ্তাহের একইদিনে একইসময়ে আবারও আপনাদের সঙ্গে কথা হবে। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। থাকুন সুন্দর ও আনন্দে। চাইচিয়ান। (সুবর্ণা/টুটুল)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040