Web bengali.cri.cn   
গ্লোবাল ভিডিও মিডিয়া ফোরাম ২০১৬
  2016-11-12 19:34:04  cri
সুপ্রিয় শ্রোতাবন্ধুরা, আপনারা শুনছেন চীন আন্তর্জাতিক বেতার থেকে প্রচারিত বাংলা অনুষ্ঠান 'সাহিত্য ও সংস্কৃতি'। আর এ অনুষ্ঠানে আপনাদের সঙ্গে আছি আমি আপনাদের বন্ধু ওয়াং ছুই ইয়াং জিনিয়া।

প্রথমে শুনুন একটি সাংস্কৃতিক খবর।

চীনের তিব্বতের সাংস্কৃতিক বিনিময়দল ২৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের থিংকট্যাংক সফর করেন। তারা তিব্বতের সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিনিময় করন।

আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সফরকালে বিনিময়দলটির প্রধান, চীনের তিব্বতবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের ইতিহাস গবেষণালয়ের প্রধান চিয়াং ইয়ুন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংলাপ করেন। সংলাপে তিনি চীনের সংখ্যালঘুজাতির নীতি এবং ঐতিহাসিক সংস্কৃতি রক্ষার ক্ষেত্রে চীনের নেওয়া উদ্যোগের পরিচয় তুলে ধরেন।

আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপ-পরিচালক জন মার্ফি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো তিব্বত সম্পর্কে অল্প তথ্য জানে। চীনের বিশেষজ্ঞদের ধারণা খুবই উত্সাহব্যাঞ্জক। বর্তমানে আয়ারল্যান্ডও ঐতিহাসিক সংস্কৃতির উন্নয়ন ও রক্ষার সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

ডাবলিন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে 'তিব্বত ফোরাম'-এ উপস্থিত ছিলেন সিয়াং ইয়ুন। তিনি 'তিব্বতের সামাজিক উন্নয়ন ও তিব্বত সংস্কৃতির উত্তরাধিকার' নিয়ে একটি ভাষণ দেন। লাসা শহরের পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত দিয়ে তিনি চীন সরকারের সংস্কৃতি রক্ষার ব্যবস্থা ও উন্নয়ন ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় মন্দিরগুলোতে সরকারের বিনিয়োগে প্রাচীন তিব্বতি ভাষা ও চীনা ভাষার বইগুলো কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা পাঠকদের জন্য সুবিধা বয়ে আনছে এবং আরো ভালভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে সংস্কৃতি রক্ষা করা হচ্ছে।

সফরকালে চীনের তিব্বত সংস্কৃতি বিনিময়দলটি আয়ারল্যান্ডের বিখ্যাত থিংকট্যাংকের আন্তর্জাতিক ও ইউরোপীয় ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনাসভায় অংশ নেন। ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ব্রেন্ডেন হ্যালিজান চীনের তিব্বত সংস্কৃতি ও তিব্বতি বৌদ্ধধর্ম রক্ষাব্যবস্থার উচ্চ মূল্যায়ন করেন।

এবার সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পর ডাবলিন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির শিক্ষক প্যাট্রিক ইংলিশও মনে করেন, তিব্বত ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষপাতিত্ব রয়েছে।

জানা গেছে, আয়ারল্যান্ড সফরের আগে চীনের তিব্বত সংস্কৃতি বিনিময়দলটি বেলজিয়াম ও ব্রিটেন সফর করেন।

ছিংহাই-তিব্বত মালভূমিতে অবস্থিত তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হচ্ছে চীনের পাঁচটি সংখ্যালঘুজাতি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম। এর লোকসংখ্যার অধিকাংশই তিব্বতি জাতির। তারা বৌদ্ধধর্মে বিশ্বাসী। সাধারণত অনেকের কাছে তিব্বতি মন্দির একটি রহস্যময় স্থান।

তিব্বতে অনেক মন্দির আছে। প্রাচীন তিব্বতে মন্দির ছিল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার একটি উপায়। ভিক্ষুরা ছিলো ক্রীতদাসের মতো, তাদের কোনো মুক্তি ছিল না। সেসময় তারা প্রায় প্রতিদিন যথেষ্ট খাবার খেতে পারতেন না। এমন কি, শীতকালে সারা পরিবারের জন্য একটি গরম কাপড়ও ছিল না। সে সময়ের জীবন-যাত্রার কথা বর্ণনা করার কোনো ভাষাও তাদের ছিলো না। ১৯৫৯ সালে গণতান্ত্রিক সংস্কার শুরু হওয়ার পর তিব্বতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। তখন থেকে ভিক্ষুরা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দিরের একজন সত্যিকার ভিক্ষুতে পরিণত হন। জীবন-যাত্রার মান এবং অবস্থানেরও উন্নতি ঘটা শুরু হয়।

গণতান্ত্রিক সংস্কার শুরু হওয়ার পর বিশেষ করে সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের পর, চীন সরকার মন্দির পুনর্গঠন ও পুরাকীর্তি রক্ষার ওপর বেশ গুরুত্বারোপ করে আসছে। ১৯৮০ সালে মন্দির পুনর্গঠনের লক্ষ্যে চীন সরকার মোট ৮ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ করে। এখন আরো প্রায় ২০টি মন্দির পুনর্গঠনের জন্য চীন সরকার আরো ৫০ কোটিরও বেশি ইউয়ান বরাদ্দ করেছে। বৌদ্ধধর্ম বিশ্বাসীদের একটি পবিত্র স্থান হিসেবে মন্দিরের দুয়ার সবসময় সবার জন্য খোলা থাকে।

মন্দির রক্ষা ছাড়াও, তিব্বতের বিভিন্ন মন্দির সক্রিয়ভাবে ধর্মীয় তত্ত্ব প্রচার ছাড়াও, অঞ্চলটির ঐতিহাসিক সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। প্রযুক্তির ব্যবহারও সেখানে ব্যাপকভাবে বিকাশমান। ১৯৯৯ সালে মন্দিরে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ক্লাস শুরু হয়। ওয়েব-সাইটও চালু করা হয়। এভাবেই সারা বিশ্বের ভিক্ষুরা তিব্বতের মন্দিরের ইতিহাসের সব দিক জানতে সক্ষম হচ্ছেন।

তিব্বতের মন্দিরগুলো ইতোমধ্যেই বৌদ্ধধর্ম বিশ্বাসীদের একটি পবিত্র স্থান ছাড়াও, একটি বিখ্যাত পর্যটন স্থান ও জাতীয় পুরাকীর্তি রক্ষার ইউনিটে পরিণত হয়েছে।

বন্ধুরা, এখন শুনুন ষষ্ঠ 'গ্লোবাল ভিডিও মিডিয়া ফোরাম ২০১৬' শিরোনামে এক প্রবন্ধ।

২০ থেকে ২১ অক্টোবর চীনের কেন্দ্রীয় টেলিভিশন (সিসিটিভি)-র আন্তর্জাতিক ভিডিও কমিউনিকেশন লিমিটেড কোম্পানির উদ্যোগে ষষ্ঠ 'গ্লোবাল ভিডিও মিডিয়া ফোরাম ২০১৬' চীনের স্যু চৌতে অনুষ্ঠিত হয়।

৩৬টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ৩'শরও বেশি তথ্যমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা এ ফোরামে অংশ নেন। তারা নতুন মিডিয়া মহলে ভিডিও তৈরি, নির্মাণ প্লাটফর্ম ও প্রযুক্তি সংস্কারসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।

চীনের তথ্য, প্রকাশনা, বেতার ও টেলিভিশন প্রশাসন বিভাগের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক মা লি ফোরামে এক ভাষণে বলেন, চীন ও বিদেশি তথ্যমাধ্যমগুলোর উচিত সহযোগিতা ও বিনিময় উন্নত করা। চমত্কার সংস্কৃতির মাধ্যমে ভাষার বাধা মোকাবিলা করতে হবে। চীন আন্তর্জাতিক টেলিভিশন কোম্পানির ভাইস-প্রেসিডেন্ট, সিসিটিভির আন্তর্জাতিক পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান থাং সি ডিং সিসিটিভির পক্ষ থেকে এ ফোরাম আয়োজনে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) প্রযুক্তি এখন খুবই আলোচিত হচ্ছে। ফোরামে এ প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এবার সিআরআই বাংলা বিভাগের পরিচালক আনন্দি ইয়ু ঢাকায় 'হ্যালো, চায়না'র স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ছাড়া, বাংলাদেশ বেতার ও দৈনিক সংবাদপত্রের অফিসও পরিদর্শন করেন। তিনি অনেক ছবি তুলে ধরেছেন। তার তোলা ছবি দেখার পর আমার খুবই আশ্চর্য লেগেছে। দেখতে খুবই চমত্কার। শুনেছি তারা বিশেষ কোম্পানির দ্বারা অফিসের নকশা প্রণয়ন করেছে।

এবার শুনুন 'বেইজিংয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গভর্নেন্সবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের ফোরাম' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন।

প্রথম আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গভর্নেন্সবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের ফোরাম সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দেশের সরকার নির্বাচন, টেকসই উন্নয়ন ও বৈদেশিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।

মধ্যআফ্রিকায় চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত, চীনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক গবেষণা তহবিলের ইউরোপীয় অধ্যয়ন কেন্দ্রের পরিচালক সুং হাই ছাও, চীনের সমসাময়িক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গবেষণালয়ের মধ্য-প্রাচ্য সম্পর্কিত গবেষণাবিষয়ক বিভাগের পরিচালক নিউ সিন ছুনসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ফোরামে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে তারা আলোচনা করেন। তারা মনে করেন, বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিপুলভাবে প্রভাবিত হবে। বিভিন্ন দেশের সরকারের নীতিরও পরিবর্তন হবে।

বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, বিশেষ করে দেশটির দু'জন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু আজ আমরা তাদের প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক নিয়ে আলোচনা করবো না। 

আসলে ট্রাম্প ও তার বাবা এবং তার পিতামহও সফল উদ্যোক্তা। ট্রাম্প পেনসেলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন হোয়ারটন স্কুলে লেখাপড়া করেছেন। আমরা জানি হোয়ারটন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বিজনেস স্কুল।

আসলে তার ছেলেমেয়েও খুব সফল ব্যবসায়ী। যেমন তার মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প 'দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের' নির্বাহী সহ-সভাপতি। নিজের ফ্যাশন ব্র্যান্ডও আছে। ট্রাম্পের ছেলে অনেক ভাষা বলতে পারেন এবং একজন সফল ব্যবসায়ীও। রাজনীতি ছাড়াও তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা, তাই না?

আসলে খুব তাড়াতাড়ি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল জানতে পারবেন বিশ্ববাসী। তখন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর কতটা প্রভাব পড়ে তা নিশ্চয়ই দেখতে পারবেন সবাই।

প্রিয় শ্রোতা, আজকের অনুষ্ঠান আপনাদের কেমন লাগলো? আপনারা যদি 'সাহিত্য ও সংস্কৃতি' বিষয়ক কোনো কিছু জানতে বা আলোচনা করতে চান, তাহলে আমাকে চিঠি লিখবেন বা ই-মেইল করবেন। আপনাদের কাছ থেকে চমত্কার পরামর্শ আশা করছি। আর আপনাদের জানিয়ে রাখি, আমার ইমেইল ঠিকানা হলো, hawaiicoffee@163.com।

চিঠিতে প্রথমে লিখবেন, 'সাহিত্য ও সংস্কৃতি' অনুষ্ঠানের 'প্রস্তাব বা মতামত'। আপনাদের চিঠির অপেক্ষায় রইলাম।

শ্রোতাবন্ধুরা, আজকের অনুষ্ঠান এখানেই শেষ করছি। অনুষ্ঠান শোনার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আগামী সপ্তাহে একই দিন, একই সময় আপনাদের সঙ্গে আবারো কথা হবে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। চাই চিয়ান (জিনিয়া/টুটুল)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040