Web bengali.cri.cn   
সুর ও বাণী : সবচেয়ে মনোরম নগরী হাংচৌ
  2016-08-31 18:49:45  cri


প্রিয় শ্রোতাবন্ধুরা, আপনারা চীন আন্তর্জাতিক বাংলা অনুষ্ঠান শুনছেন। আমি আনন্দী বেইজিং থেকে আপনাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। বন্ধুরা, আপনারা জানেন, আগামী ৪ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর হাংচৌতে জি-টোয়েন্টি শীর্ষসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। জি-টোয়েন্টি শীর্ষসম্মেলন একটি বিশাল আয়োজন।

আমি দু'বার হাংচৌ ঘুরতে গিয়েছিলাম। বন্ধুরা, আজকের 'সুর ও বাণী' আসরে আপনাদের সামনে হাংচৌ নগরীর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরবো। সেই সাথে এই মনোরম শহর নিয়ে লেখা কয়েকটি শ্রুতিমধুর গান শোনাবো।

হাংচৌ চীনের চেচিয়াং প্রদেশের রাজধানী। চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চল। বেইজিং-হাংচৌ মহাখালের সবচেয়ে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত এ শহর। চেচিয়াং প্রদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও আর্থিক কেন্দ্র হাংচৌ। এ নগরী চীনের সাতটি প্রাচীন রাজধানীর অন্যতম এবং বর্তমান চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ই-কমার্স কেন্দ্রগুলোর অন্যতম। হাংচৌয়ের প্রাকৃতিক সুন্দর 'ভূস্বর্গ' হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে। হাংচৌ শহরে সাংস্কৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ অনেক পুরাকীর্তি রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম হ্রদের নিকটবর্তী এলাকায় বহু প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক দর্শনীয় স্থান আছে। তাহলে বন্ধুরা, আমার সঙ্গে 'পশ্চিম হ্রদের দৃশ্য' নামে একটি শ্রুতিমধুর সুর শুনে সে অঞ্চলের সৌন্দর্য কল্পনা করুন।

সুপ্রিয় শ্রোতা, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাংচৌ ২০১৬ সালের জি-টোয়েন্টি শীর্ষসম্মেলন আয়োজনের সুযোগ পায়। আগেই বলেছি, ৪ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাংচৌতে জি-টোয়েন্টির ১১তম শীর্ষসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। চীন সরকার দু'দিনব্যাপী এ সম্মেলন সফল করতে নানা প্রস্তুতিমূলক কাজ করেছে। ২০১৬ সালের জি-টোয়েন্টি শীর্ষসম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে চীন বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বিরাট ভূমিকা ও অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়।

বন্ধুরা, এখন শুনুন 'হাংচৌ তোমাকে স্বাগত জানায়' নামে একটি গান। চীনের বিখ্যাত সুরকার ইন ছিং গানের সুর করেছেন। চীনের সংগীত ও সাহিত্য সোসাইটির সহ-সভাপতি বিশিষ্ট লেখক ওয়াং সিয়াও লিং এ গানের কথা লিখেছেন। হাংচৌয়ের বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী লিউ ওয়েই এবং চেন থাও এ গান গেয়েছেন। এ গানে গীতিকার বলেছেন, 'ভূস্বর্গে আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করি। হাংচৌ তোমাকে স্বাগত জানায়। কারণ তুমি আসলে এখানে চার ঋতুতে ফুল ফুঁটবে। দু'চোখে স্বপ্ন থাকলে সুখবর আসবে। হাংচৌ তোমাকে স্বাগত জানায়।'

শ্রোতা, হাংচৌ নগরীর আয়তন ১৬৫৯৬ বর্গকিলোমিটার। এ শহরে স্থায়ী অধিবাসীর সংখ্যা ৯০ লাখ ১৮ হাজার। ইতিহাস বলছে, এক সময় হাংচৌ চীনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল। বর্তমান যুগে নানা আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্বের জনগণ হাংচৌকে জেনেছেন। চলতি বছর জি-টোয়েন্টি শীর্ষসম্মেলন ছাড়াও ২০১৮ সালে বিশ্ব শর্টপুল সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২০২২ সালে এশীয় গেমস অনুষ্ঠিত হবে হাংচৌ নগরীতে। বেইজিং ও কুয়াংচৌর পর, হাংচৌ হবে এশীয় গেমস আয়োজনে চীনের তৃতীয় শহর।

প্রিয় বন্ধুরা, হাংচৌয়ে উত্পাদিত পণ্যদ্রব্য সমৃদ্ধ। ফলে 'ধান-মাছের ভাণ্ডার', 'রেশমের ভুবন' এবং 'ভূস্বর্গ' নামে এ শহর সকলের কাছে সুপরিচিত।

বন্ধুরা, এখন শুনুন 'স্বপ্নের স্বর্গ' নামে একটি চমত্কার গান। ২০০২ সালে 'দ্বিতীয় পশ্চিম হ্রদ মেলা'য় এ গানটি হাংচৌ শহরের গান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

১৯৯৫ সালের গ্রীষ্মকালে একদিন মুষলধারে বৃষ্টির পর সুরকার ইং হাও পশ্চিম হ্রদের তীরে সাইকেল চালাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাত্ তার মনে সুর সৃষ্টি করার অনুভূতি হয়। গানের প্রথম বাক্য তিনি লেখেন, 'আমাদের বাড়ি স্বর্গে মত'। এ গানটি প্রচারের পর শহরবাসীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। শহরবাসীরা অনেকে প্রস্তাব করেন, গানটি হাংচৌ শহরের গান হওয়া উচিত। বন্ধুরা, শুনুন 'স্বপ্নের স্বর্গ' নামের গানটি।

শ্রোতাবন্ধুরা, হাংচৌয়ে অনেক প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান, জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত পুরাকীর্তি এবং জাদুঘর রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান 'পশ্চিম হ্রদ'। ২০১১ সালের ২৪ জুন প্যারিসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির ৩৫তম অধিবেশনে 'চীনের হাংচৌয়ের পশ্চিম হ্রদ সাংস্কৃতিক দর্শনীয় স্থান' বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পশ্চিম হ্রদ হাংচৌ শহরের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। মনোরম হ্রদ, পাহাড়ের দৃশ্য, আশেপাশের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান ও পুরাকীর্তির জন্য বিশ্বখ্যাত এ এলাকা। এর আয়তন ৪৯ বর্গকিলোমিটার। ভিন্ন ভিন্ন সময় পশ্চিম হ্রদে গেলে আপনি ভিন্ন রকমের সৌন্দর্য দেখতে পাবেন এবং আপনার ভিন্ন অনুভূতি হবে। কথায় আছে, পশ্চিম হ্রদে গেলে বসন্তকালে ফুল দেখবেন, গ্রীষ্মকালে পদ্ম দেখবেন, শরত্কালে চাঁদ দেখবেন আর শীতকালে তুষার দেখবেন।

এখন আপনারা তাইওয়ানের কণ্ঠশিল্পী ফেং ফেই ফেইয়ের কণ্ঠে শুনুন 'পশ্চিম হ্রদের বসন্তকাল' নামের অদ্ভূত সুন্দর গানটি। এ গানের তালে তালে পশ্চিম হ্রদের সৌন্দর্য অনুভব করুন।

বন্ধুরা, আগেই বলেছি, আমি দু'বার হাংচৌতে গিয়েছি। প্রথমবার পশ্চিম হ্রদে যাওয়ার সময় গ্রীষ্মকালের এক বিকেলে হালকা বৃষ্টি ছিলো। আমি আমার ছেলেকে নিয়ে পশ্চিম হ্রদের তীরে হাঁটার সময় দেখেছি স্থানীয় স্কুলের একদল ছাত্র শিক্ষকের সঙ্গে পশ্চিম হ্রদের খোলামাঠে বসে ক্লাস করছে। সেই শিক্ষক একজন অত্যন্ত ভদ্রলোক। হাংচৌর ইতিহাস সম্পর্কে ভালো জ্ঞান আছে তার। তিনি ধৈর্য নিয়ে ছাত্রদের পশ্চিম হ্রদ সম্বন্ধে নানা তথ্য ও ঐতিহাসিক কাহিনী ব্যাখ্যা করছিলেন। সেখানকার এক একটি প্রস্তরভাস্কর্যের পিছনে এক একটি গল্প রয়েছে। আমরা অনেকক্ষণ তাদের সঙ্গে ছিলাম। শিক্ষক ব্যাখ্যা করার সময় ছাত্র-ছাত্রীরা খাতায় নোট লিখছিলো। এ দৃশ্য এখনো আমার স্পষ্ট মনে আছে। মনে আছে হালকা বৃষ্টিতে পশ্চিম হ্রদের সৌন্দর্যও। বন্ধুরা, শুনুন গায়িকা চাং লিয়াং ইংয়ের গাওয়া 'পশ্চিম হ্রদের বৃষ্টি' নামের গানটি। এ গানটি 'পশ্চিম হ্রদের ছাপ' নামে বড় আকারের লাইভ অনুষ্ঠানের থিম সং।

প্রিয় শ্রোতা, পশ্চিম হ্রদের কথা বলতে গেলে লোককাহিনী 'সাদা সাপের গল্প' ভুলে গেলে চলবে না। এ গল্প চীনের চারটি সবচেয়ে জনপ্রিয় লোককাহিনীর অন্যতম। এ লোককাহিনীকে ২০০৬ সালের ২ জুন চীনের জাতীয় পর্যায়ের প্রথম কিস্তির অবৈষয়িক সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গল্পটি এমন, সোং রাজবংশের আমলে এক হাজার বছর ধরে অনুশীলন করার পর একটি 'সাপ দৈত্য'কে পূর্বজীবনে শু সিয়ান নামে এক ছেলে বিপদ থেকে উদ্ধার করে। এ দয়ার প্রতিদান দেওয়ার জন্য ওই 'সাপ দৈত্য' 'পাই সু চেন' নামে একটি সুন্দর নারীর রূপ ধারন করে। পরে শু সিয়ানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু চিনশান মন্দিরের সন্ন্যাসী ফা হাই সাপ দৈত্য এবং মানুষের বিয়ে মানতে পারেন না। সাপ দৈত্য স্বর্গের নিয়মবিধি লঙ্ঘন করেছে এমন অভিযোগ এনে তাদের বিচ্ছিন্ন ঘটানো হয়। পাই সু চেন সন্তান প্রসব করার পর ওই সন্ন্যাসী লেইফাং টাওয়ারের নিচে তাকে বন্দি করে রাখে। ১৯৯২ সালে এ গল্প অবলম্বনে টেলিভিশন নাটক প্রচারের পর খুব জনপ্রিয় হয়। বন্ধুরা, এবার শুনুন 'নতুন সাদা সাপ কাহিনী'র থিম সং। এ গানের নাম 'এক হাজার বছর ধরে অপেক্ষা করি'।

বন্ধুরা, এতোক্ষণ হাংচৌ সম্পর্কে আপনাদের নানা তথ্য জানালাম। হাংচৌ সত্যি সত্যি খুব শান্ত ও আকষর্ণীয় জায়গা। প্রাচীনকাল থেকে চীনের কবি ও লেখকরা এ শহর নিয়ে কবিতাসহ নানা রকম রচনা সৃষ্টি করেছেন। তাদের মধ্যে একটি কথা খুব প্রচলিত রয়েছে। তারা মনে করেন 'দক্ষিণ চীনের সবচেয়ে সুন্দর অঞ্চল হাংচৌ'। আপনাদের সুযোগ থাকলে অবশ্যই হাংচৌতে বেড়াতে যাবেন। অনুষ্ঠানের শেষে শুনুন আজকের 'সুর ও বাণী' আসরের শেষ গান 'দক্ষিণ চীনের সবচেয়ে সুন্দর স্থান হাংচৌ' ।

প্রিয় বন্ধুরা, 'সুর ও বাণী' আসর আজকের মতো এখানে শেষ করছি। চীনে অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা রয়েছে। পরবর্তী আসরে আমি যথাক্রমে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেবো এসব জায়গার সাথে। আজ বিদায় নিচ্ছি। ভালো থাকুন সবাই। আবার কথা হবে। (ইয়ু/মান্না)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040