Web bengali.cri.cn   
সুর ও বাণী: গীতিকার ফাং ওয়েন শান
  2016-07-13 21:11:43  cri


বন্ধুরা, এখন শুনছেন 'ছি লি সিয়াং' নামে গান। এ গানে বলা হয়েছে, 'সারারাত বৃষ্টি পড়তে থাকে। আমার প্রেম বৃষ্টির মতো ভরপুর। কবিতার মতো প্রজাপতি জানালার পাশে উড়ে বেড়ায়। আমি তোমাকে ভালোবাসার কথা কবিতায় লিখি। তোমার মুখ টমেটোর মতো সুন্দর।'

ফাং ওয়েন শান

বন্ধুরা, এ মাত্র আপনারা 'ছি লি সিয়াং' নামে একটি গান শুনলেন। এ গানের কথা লিখেছেন বিখ্যাত গীতিকার ফাং ওয়েন শান। ২০০৪ সালে এ গানের জন্য মিউজিক রেডিও'র বার্ষিক শ্রেষ্ঠ গীতিকার নির্বাচিত হন তিনি। তা ছাড়া এ গানটি ২০০৪ ও ২০০৫ সালে বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছে।

ফাং ওয়েন শান ১৯৬৯ সালে তাইওয়ানের হুয়া লিয়ান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ফাং ওয়েন শান পাঁচ বছর বয়সে বাবা-মার সঙ্গে থাও ইউয়ান জেলায় চলে যান। যৌবনে তিনি চুরি প্রতিরোধ সরঞ্জামের বিক্রেতা ছিলেন। জীবনের কষ্টকর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি আরো ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন যে, সুযোগ কত গুরুত্বপূর্ণ। এখন তিনি চীনা প্রকাশনালয়ের সাধারণ সম্পাদক। তিনি প্রচুর গানের কথা লিখেছেন। তার লেখা গানগুলোতে চীনের প্রাচীনকালের কবিতার ভাব রয়েছে। চীনের সংগীত জগত তাকে 'চীনা ভাষার মাস্টার' স্বীকৃতি দিয়েছে।

প্রিয় বন্ধুরা, এখন আপনারা শুনছেন 'সবসময় খুব শান্ত ছিলাম' নামের গানটি। এ গানটি ফাং ওয়ান শানের অন্যান্য গানগুলোর মতো না। এ গানের কথা স্পষ্ট। এতে সরাসরি মনের অনুভুতি প্রকাশ করা হয়েছে। গানটি প্রথমবার শুনেই আমি মুগ্ধ হয়েছি। শুনুন গানটি।

ফাং ওয়ান শান বলেছেন, প্রেম ভালো হোক, মন্দ হোক, সবই জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রেম সুন্দর হতে পারে, নাও হতে পারে। নাটকের মতো তুমি কখনো ভাবতে পারো না জীবনের চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে। জীবনে সবসময় আমাদের ইচ্ছা পূরণ হয় না। যা খুশি তা হতে পারে না, এটাই জীবনের তাত্পর্য। যদি প্রথম থেকে আমরা জানি, এ খেলায় কে বিজয়ী হবে এবং কে পরাজিত হবে তাহলে আর কারো খেলার আগ্রহ থাকবে না। জীবনের নাট্যশালায় আমরা নিজেরাই একটি চরিত্র বেছে নিয়ে অভিনয় করি। কেউ আমাদের জোর করে বাধ্য করে না। আমরা নিজেরা অতীতের সিদ্ধান্তগুলোর জন্য অনুতাপ করতে পারি না। কারণ অনুতাপ করে কোনো লাভ নেই।

প্রিয় শ্রোতা, ফাং ওয়ান শানের প্রথম স্বপ্ন ছিল চিত্রনাট্যকার হওয়া। পরে একজন ভালো সিনেমা পরিচালক হতে চান তিনি। কিন্তু অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতার কারণে এগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। তত্কালীন তাইওয়ানের সিনেমার বাজারের অবস্থা বিবেচনা করার পরে তিনি গানের কথা লেখার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজের লেখা গানগুলো নানা ডিস্ক কোম্পানি এবং সংগীতজ্ঞদের কাছে পাঠান। প্রতিবার একশ কপি পাঠাতেন। কিন্তু কোন উত্তর পেতেন না। অবশেষে তিনি তাইওয়ানের বিখ্যাত উপস্থাপক উ জোং সিয়ানের সঙ্গে দেখা করেন। উ জোং সিয়ান ফাং ওয়ান শানকে নিজের কোম্পনিতে নিয়োগ করেন। তার কোম্পানির অন্যান্য সুরকার ও শিল্পীদের সঙ্গে গান সৃষ্টি করার সুযোগ করে দেন।

ফাং ওয়েন শান ও চৌ চিয়ে লুন

এরপর ফাং ওয়ান শান তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার চৌ চিয়ে লুনের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। দু'জনে এক সাথে কাজ শুরু করেন। অনেক দর্শক ও শ্রোতা প্রথমে চৌ চিয়ে লুনের নাম শুনেছেন। এবার তারা ফাং ওয়ান শানকেও জানলেন। এ দু'জন ব্যক্তি চীনের পপ সংগীত জগতের এক স্বর্ণালী অংশীদার। তারা একসাথে অনেক জনপ্রিয় গান সৃষ্টি করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। বন্ধুরা, এবার চৌ চিয়ে লুনের কণ্ঠে 'নীল ও সাদা চীনামাটির পাত্র' নামের একটি গান শুনুন।

প্রিয় শ্রোতা, ২০১৩ সালে ফাং ওয়ান শান প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। তিনি এ চলচ্চিত্র পরিচালনার জন্য পাঁচ বছর প্রস্তুতি নিয়েছেন। সিনেমা কোম্পানির তার প্রতি আস্থা ছিল। তিনি শুটিং দল নিয়ে তাইওয়ান, বেইজিং, সিঙ্গাপুর ও ফ্রান্সে গিয়ে ছবি তুলেছেন। ৮টি দেশের ৩৩৩টি শহর থেকে আসা মোট ১০৩২৫ জন মেয়ে এ চলচ্চিত্রের প্রধান অভিনেত্রী নির্বাচনে অংশ নেয়। ওয়েবসাইটে মোট ১ কোটি ৫৫ লাখ ২০ হাজার ভোট দেওয়া হয়। অবশেষে হান ইয়ু চিয়ে  নামে একজন অভিনেত্রী এ সুযোগ পান। এ চলচ্চিত্রের নাম 'বৃষ্টির শব্দ শুনেছি'।

এ চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে তাইওয়ানের একটি জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উপস্থাপক উ জোং সিয়ান বলেছেন, 'যদি আপনি এ চলচ্চিত্র না দেখেন তাহলে মনে রাখবেন আপনার জীবনে তা একটি বড় পরিতাপের বিষয়।'

বন্ধুরা, এ চলচ্চিত্রে মোট ১৯টি গান রয়েছে। শ্রুতিমধুর সংগীতের ভিত্তিতে গভীর প্রেমের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে এ চলচ্চিত্রে। ফাং ওয়ান শান চেয়েছেন, এ চলচ্চিত্রের প্রতিটি মুহুর্ত পর্যটন পোস্টকার্ডের মতো সুন্দর হবে। হয়েছেও তাই। তার সংগীত ও প্রেমের গল্প দর্শকদের মনকে সান্ত্বনা দেয়, মনের বেদনা প্রশমিত করে।

চলচ্চিত্র 'বৃষ্টির শব্দ শুনেছি'

সুপ্রিয় শ্রোতা, 'কুংফু পান্ডা' সবার প্রিয় একটি চলচ্চিত্র। এ চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্র একটি অত্যন্ত লাবন্যময় বড় পান্ডা। তার নাম 'আপাও'। এ নামে এ পর্যন্ত তিনটি সিরিজ সিনেমা হয়েছে। ২০১৬ সালে 'কুংফু পান্ডা-৩' সারা বিশ্বে মুক্তি পায়। এ সিনেমায় আপাও বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া তার বাবার সঙ্গে মিলিত হয়। আপাও বাবার সঙ্গে পান্ডাদের বসবাসরত পাহাড়ে ফিরে গিয়ে অনেক পান্ডার সঙ্গে পরিচিত হয়ে আনন্দিত হয়। তবে এ সময় এক রহস্যময় শক্তির অধিকারী শত্রু তাদের এলাকা আক্রমণ করে। এ শত্রুর সঙ্গে তাদের কঠিন লড়াই হয়। আপাও নিজের বাড়ি এবং আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের রক্ষা করার জন্য প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালায়। এ চলচ্চিত্রের থিম সং 'ট্রাই'  প্রচারের পর ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। ফাং ওয়েন শান এ গানের কথা লিখেছেন। সুর করেছেন পাই ওয়েই চুন। আর গানটি গেয়েছেন চৌ চিয়ে লুন এবং পাই ওয়েই চুন। শুনুন গানটি।

কোংফু পান্ডা

বন্ধুরা, ফাং ওয়েন শান তাইওয়ানের একজন নামকরা গীতিকার। তবে তার প্রভাব চীনের মূলভূখণ্ড, হংকং ও সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য চীনা ভাষা প্রচলিত অঞ্চলেও আছে। সিঙ্গাপুরের গায়িকা সুন ইয়ান চিও তার গান গেয়েছেন। যেমন 'সরাসরি আসা-যাওয়া' গানটি। এ গানে বলা হয়েছে, 'এক ধরনের সাহসের নাম হচ্ছে ক্ষমা করা। আমি বাসায় ফিরে যাওয়ার পথে চিন্তা করি, আমার প্রেম পরিত্যাগ করা যায় কিনা? প্রেমের কোন মানদণ্ড নেই। যদি তুমি কারো কাছে ঋণী হও তবে তা কোনো একদিন শোধ করতে হবে।'

প্রিয় বন্ধুরা, ফাং ওয়ান শান গান লেখার চেয়ে কবিতা লিখতে বেশি পছন্দ করেন। তিনি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নতুন নতুন কবিতা সৃষ্টি করেন। তার বেশির ভাগ গান প্রাচীন কবিতার মতো। তিনি কিছু কিছু কঠিন শব্দ ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। তবে কিছু গান আছে তাতে সরল ভাষায় মনের কথা বলেছেন। যেমন, তিনি গায়িকা চিয়াং হুইয়ের জন্য 'বৃষ্টিপাতের আওয়াজ' নামে একটি গান লিখেছেন। এ গানের কথা তাইওয়ানের আঞ্চলিক মিননান ভাষা। এ গানে জন্মস্থান ত্যাগ করে চলে যাওয়া এক ব্যক্তির মনের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। অনেক দূর থেকে স্বদেশের কথা, মায়ের কথা, ছোটবেলার কথা মনে পড়ে তার। সে খুবই মিস করে জন্মভূমিকে। এ গান গভীর আবেগে ভরপুর।

প্রিয় বন্ধুরা, এ পর্বের 'সুর ও বাণী' আসরে আপনাদের সামনে তাইওয়ানের বিখ্যাত গীতিকার ও কবি ফাং ওয়েন শানের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়েছি। তার কয়েকটি চমত্কার গান শুনিয়েছি। আপনাদের ভালো লাগলে আমাকে জানাবেন।

এ অনুষ্ঠানটি শোনার জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকুন সবাই। আবার কথা হবে। (ইয়ু/মান্না)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040