২০১৫ সালে চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের কম অর্থাত ৬.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ৯০ দশক থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রপ্তানিসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক কমে গেছে। ২০১৬ সালের শুরুতেই কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খ্য ছিয়াং বলেন, চীনের উন্নয়ন নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
'চলতি বছর চীনে সার্বিক সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলার সূচনা বছর এবং অবকাঠামোগত সংস্কারের নির্ণায়ক বছর। সরকারের কার্যক্রম ভালোভাবে পরিচালনার জন্য স্থিতিশীল সামষ্টিক নীতিমালা এবং সঠিক শৈল্পিক নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত। পাশাপাশি স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত সংস্কারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত।
মধ্য ও উচ্চ পর্যায়ের প্রবৃদ্ধির হার ত্রয়োদশ পাচঁসালা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত সিপিসি ১৮তম কংগ্রেসের ৫ম পুর্ণাঙ্গ অধিবেশনে সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটি ত্রয়োদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা কার্যকরের সময় গড় প্রবৃদ্ধির হার ৬.৫ শতাংশের ওপর নির্ধারণ করেছে। তাই ত্রয়োদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার প্রথম বছর প্রবৃদ্ধির হার সম্পর্কে কি পদক্ষেপ থাকবে? এ প্রসঙ্গে কর্মরিপোর্টে বলা হয়েছে।
"২০১৬ সালে প্রবৃদ্ধির ৬.৫ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে থাকবে। এ প্রবৃদ্ধি সার্বিক সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলা, অবকাঠামোগত সংস্কারের চাহিদা মেটানো এবং বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় অনুকূল। প্রবৃদ্ধির এ হারে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন সরকার এই প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার এক আওতার মধ্যে নির্ধারণ করেছে। এতে বিরাজমান চাপ মোকাবিলায় চীন সরকারের আরও বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য চীন সামষ্টিক নীতিমালা স্থিতিশীল ও সুবিন্যাস করবে এবং ইতিবাচক আর্থিক নীতি এবং সুষ্ঠু মুদ্রানীতি প্রণয়ন করবে।
চলতি বছর সার্বিক সম্প্রীতিময় সমাজ প্রতিষ্ঠার সূচনা বছর। সম্প্রীতিময় কি-না, তা গ্রামবাসীর কাছ থেকে জানা উচিত-এমন কথা প্রচলিত রয়েছে। গত নভেম্বরে সিপিসি'র কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরো আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ৭ কোটি মানুষের দারিদ্র্য দূর করবে। এ প্রসঙ্গে রিপোর্টে বলা হয়েছে:
'চলতি বছর ১ কোটি মানুষের দারিদ্র্য বিমোচন করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানান্তরিত মানুষের সংখ্যা ২০ লাখ। এক্ষেত্রে চীনের কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা বাড়বে ৪৩.৪ শতাংশ। এছাড়া গরীব অঞ্চলগুলো সরকারের বিভিন্ন গণকল্যাণনীতি ও প্রকল্প থেকে আরও সুবিধা পাবে।
এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকার কর্মরিপোর্টের সঙ্গে ত্রয়োদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার খসড়াও জাতীয় গণকংগ্রেসের প্রতিনিধিদের কাছে উত্থাপন করেছে।
ত্রয়োদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার খসড়ায় সার্বিক সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলাকে কেন্দ্রে করে উন্নয়নের ভারসাম্যহীনতা ও সমন্বয়হীনতা-সহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছর অর্থনীতি ও সমাজ উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময় জাতীয় গণকংগ্রেসের ৩ হাজার প্রতিনিধি নিজেদের দায়িত্ব পালন করে সরকারি কর্মরিপোর্ট পর্যালোচনা করবেন এবং অধিবেশনের সমাপ্তি লগ্নে ভোট দেবেন।
(ওয়াং তান হোং/তৌহিদ)