মার্চ ৫: চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খ্য ছিয়াং আজ (শনিবার) সরকারি কার্যবিবরণী পেশ করার সময় জানিয়েছেন, ২০১৫ সাল ছিল 'দ্বাদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা'র শেষ বছর। বিগত পাঁচ বছর চীনের উন্নয়নের সাফল্য বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। 'দ্বাদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার' প্রধান লক্ষ্যগুলোর সবই বাস্তবায়ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির অপেক্ষাকৃত উন্নয়ন বজায় রয়েছে। জিডিপির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৭.৮ শতাংশ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক সত্তা এবং পণ্য বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রথম ও বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রধান দেশ হয়েছে চীন।
কাঠামোগত বিন্যাসে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে লি জানান, সেবা খাত সবচেয়ে বড় শিল্পে পরিণত হয়েছে। শিল্পায়ন ও তথ্যায়নের সমন্বয় আরো গভীর হয়েছে। কৃষি খাতের উত্পাদন স্পষ্টভাবে বেড়েছে। অর্ধেকেরও বেশি মানুষ এখন শহরের বাসিন্দা।
অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন সম্পর্কে লি বলেন রেশম পথের দৈর্ঘ্য ১ লাখ ২১ হাজার কিলোমিটার, যার মধ্যে দ্রুতগতির রেলপথের দৈর্ঘ্য ১৯ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। বিশ্বের ৬০ শতাংশের বেশি দ্রুতগতির রেলপথ রয়েছে চীনে। মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১ লাখ ২০ হাজার কিলোমিটার। বিশ্বের বৃহত্তম এলাকায় চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
লি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। কোয়ান্টাম যোগাযোগ, নিউট্রিনো দোলন, উচ্চ তাপমাত্রায় লৌহ ভিত্তিক সুপারকন্ডাক্টার-সহ বিভিন্ন মৌলিক গবেষণায় সুফল অর্জিত হয়েছে। মানববাহী নভোযান, চাঁদ অনুসন্ধান প্রকল্প, গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানসহ নানা প্রকল্প বিশ্বমানে উন্নত হয়েছে।
জনগণের জীবন সুস্পষ্টভাবে উন্নত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী লি। শহরাঞ্চলে ৬ কোটি ৪০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র জনসংখ্যা ১০ কোটি কমেছে। ৩০ কোটি গ্রামীণ মানুষের খাবার পানির সমস্যার সমাধান হয়েছে।
সর্বশেষে লক্ষণীয় সামাজিক উন্নয়নের কথা বলেন লি খ্য ছিয়াং। শিক্ষার মান সুস্পষ্টভাবে বেড়েছে। মৌলিক চিকিত্সা বীমা প্রায় সারা দেশে চালু হয়েছে। মৌলিক বার্ধক্যবিমায় অংশগ্রহণের হার ৮০ শতাংশেরও বেশি। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। চীনের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সামরিক সংস্কার সাফল্য অর্জন করেছে। পাঁচ বছরের পরিশ্রমে চীনের অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক প্রভাব সবই নতুন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।
(ইয়ু/তৌহিদ)